জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা দাবি করেছেন, গত প্রায় ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং প্রকৃত অগ্রগতি হয়নি।
সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন। বক্তারা বলেন, বিগত সময়ের উন্নয়ন কার্যক্রম মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত ছিল এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, স্বৈরশাসনের সময় উন্নয়নকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে। তিনি অভিযোগ করেন, ফরিদপুরকে বিভাগে উন্নীত করার দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে এসব সমস্যা সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ঘাটতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চন্দনাইশ ও আংশিক সাতকানিয়া নিয়ে গঠিত তার এলাকায় বিপুল জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও এখনো কোনো হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন সাবেক শাসকের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করে বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘ঘৃণা প্রস্তাব’ আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়।
অন্যদিকে বিরোধী দলীয় সদস্য আবু তালেব (ঝিনাইদহ-৪) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জানানোর বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বিতর্কিত হওয়ায় তাকে ধন্যবাদ দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
এর আগে চলতি অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন এবং সেই ভাষণের ওপর আলোচনা করতে কার্যউপদেষ্টা কমিটি ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।
সংসদের এই আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য অংশ নেন এবং দেশের উন্নয়ন, শাসনব্যবস্থা ও অতীত সরকারের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।