আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সারা দেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে অবৈধ সিসা বার ও লাউঞ্জ পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সিসা ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে তফসিলভুক্ত। তাই অনুমোদনহীন সিসা লাউঞ্জ পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অবৈধ সিসা ব্যবসা বন্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর।
সাম্প্রতিক অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার একটি অবৈধ সিসা বারে অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ কেজি সিসা ও ৩৫টি হুক্কা জব্দ করা হয়। এছাড়া এস লাউঞ্জ রেস্টুরেন্ট নামের আরেকটি অবৈধ সিসা লাউঞ্জ থেকে চার কেজি সিসা ও আটটি হুক্কা জব্দ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান অভিযান এড়াতে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করে। এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কারও সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত, তদারকি কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান শনাক্ত ও বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও বারিধারার মতো এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে ব্যাপকভাবে অবৈধ সিসা বার গড়ে ওঠে। প্রভাবশালী ব্যক্তি, অসাধু ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এসব স্থানে মাদক সেবন ও কেনাবেচাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম চলত।
তিনি বলেন, অবৈধ সিসা লাউঞ্জ যাতে আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনের আড়ালে আর পরিচালিত না হতে পারে, সে জন্য বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধেও বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।