জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, সংবিধান বাতিলের চিন্তা দেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অর্জনের প্রতি অসম্মানের শামিল।
রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তারা বলেন, সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে সংশোধন করা যেতে পারে, তবে একে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, সংবিধান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাই এটিকে বাতিল নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনার পথ এগিয়ে নিতে হবে।
আলোচনায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, দেশ সংবিধান অনুযায়ী চলছে এবং সংসদ সদস্যসহ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা সবাই সংবিধানের অধীনেই শপথ নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব।
পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জামির সংবিধানকে জাতির পরিচয়ের দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল, যা রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে।
অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, অতীতের শাসনব্যবস্থা দেশে একটি নির্ভরশীল অর্থনীতি তৈরি করেছিল। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করে সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রাজনীতিতে সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে হুইপ রফিকুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলগুলোরও উচিত অসৎ উদ্দেশ্য পরিহার করে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য এম মাজেদুর রহমান গাইবান্ধা ও জামালপুরের মধ্যে যমুনা সেতু-২ নির্মাণের দাবি জানান।
এর আগে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন। পরে কার্য-উপদেষ্টা কমিটি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এবং তা সমর্থন করেন হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।