পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
বিএসইসি’র পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বাসস’কে জানান, এই কর্মপরিকল্পনায় পুঁজিবাজার সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বিনিয়োগ শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কমিশন ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার সংস্কার ও সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো দেশের পুঁজিবাজারে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
বিএসইসি’র কর্মপরিকল্পনায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগ শিক্ষা বিস্তারে দেশব্যাপী অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুঁজিবাজার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কমিশনে যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুঁজিবাজার সংস্কারে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে শক্তিশালী এবং বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এছাড়া, গত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়বে।
আগামী অর্থবছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং এবং অন্যান্য অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদারে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অদাবীকৃত লভ্যাংশ এবং শেয়ার প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের কাছে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
স্টার্ট-আপ এবং এসএমই খাতের জন্য ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ চালুর উদ্যোগও রয়েছে। এতে ৩০ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্তির সুবিধা দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হবে।
এছাড়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুঁজিবাজার শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বিএসইসি’ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।