ইরান-ইসরায়েল চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যাওয়ায় পেন্টাগন ও মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে পেন্টাগনের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ৪০ দিনের সংঘাতে ইরানের হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড)’ ব্যবস্থার বিপুল সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক মজুদের প্রায় অর্ধেক থাড ইন্টারসেপ্টর ইতোমধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে।
এ ছাড়া পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকেও বিপুলসংখ্যক ‘স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩’ ও ‘স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬’ ছোড়া হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দিক থেকে আসা হামলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের তুলনায় অনেক বেশি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে এবং অধিকসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎপাদন করা সম্ভব নয়। ফলে বর্তমান মজুদ পুনরায় পূরণ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সামরিক বিশ্লেষক কে এ গ্রিয়েকো বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় ভূমিকা নেওয়ায় তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর চাপ বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিনেটর মার্ক কেলি বলেন, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষা মজুদ কীভাবে দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছে যে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।