আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় নদী দিবস। নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি, কৃষি ও জনজীবনে নদীর গুরুত্ব তুলে ধরতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে, নদী রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসুন।’
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় র্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনার, নদী পরিষ্কার অভিযান, বৃক্ষরোপণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন নদী রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরিতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
জাতীয় নদী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কৃষি উৎপাদন, নৌপরিবহন, মৎস্যসম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় অংশই নদীকেন্দ্রিক। দেশের বহু অঞ্চলের মানুষ এখনও নদীপথের ওপর নির্ভরশীল।
তবে দখল, দূষণ, শিল্পবর্জ্য, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং পলিথিনের কারণে দেশের বহু নদী এখন হুমকির মুখে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদীর দূষণ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। এছাড়া নাব্যতা হারিয়ে অনেক নদী মৃতপ্রায় হয়ে পড়ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, নদী শুধু পানির উৎস নয়, এটি একটি জীবন্ত প্রতিবেশ ব্যবস্থা। নদী রক্ষা করা গেলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে। অন্যদিকে নদী ধ্বংস হলে জলাবদ্ধতা, বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হবে।
সরকার নদী রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর তদারকি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়।
শিক্ষাবিদ ও গবেষকরাও নতুন প্রজন্মের মধ্যে নদী সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নদী বাংলাদেশের প্রাণ ও পরিচয়ের অংশ। তাই নদী রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে।