স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও কার্যকর অভিযান চালানো হবে।
পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাজীপুরের সাবেক কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আইনি ও বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর ও ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোংলায় কোস্টগার্ড ও স্থানীয়দের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যু দমনে কোস্টগার্ড নিয়মিতভাবে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর অনুযায়ী কাজ করছে। চিহ্নিত ডাকাত মিরাজের অনুসারীরা কোস্টগার্ডের ওপর হামলা চালালে তারা আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা নেয়। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আগামী ২৩ জুন একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পুলিশের সতর্কতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ওই দিনকে কেন্দ্র করে দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করে কূটনৈতিক মাধ্যমে ইউএই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাহসিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। তাদের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ উদ্যোগে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করার জন্য ট্রাফিক কনস্টেবল মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকা ও আইজিপি ব্যাজ দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘শাস্তি ও পুরস্কার’ নীতি কার্যকর করেছে। যারা দায়িত্ব পালনে সততা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। একই সঙ্গে গাফিলতি, দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।