উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ডেল্টা অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ব্লু কার্বন অর্থায়ন (ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমন্বিত জলবায়ু কার্যক্রম ত্বরান্বিতকরণ: ব্লু কার্বন অর্থায়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসক্যাপ) এবং ল্যান্ডস্কেপ অ্যালায়েন্স যৌথভাবে এ সেশনের আয়োজন করে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ব্লু কার্বন ইকোসিস্টেমকে শুধু পরিবেশগত সম্পদ হিসেবে নয়, বরং জলবায়ু, জনপদ ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে জলবায়ু অভিবাসনসংক্রান্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে প্রায় এক কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এ বাস্তবতায় দেশের ম্যানগ্রোভ বন ও উপকূলীয় জলাভূমি কেবল পরিবেশগত সম্পদ নয়, বরং জাতীয় জলবায়ু অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জলবায়ু ও বাস্তুতন্ত্র পরস্পর সংযুক্ত। বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় ক্ষয়ের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই ব্লু কার্বন ম্যাপিং, কার্বন পরিমাপের অভিন্ন পদ্ধতি এবং আঞ্চলিক কার্বন বাজার গড়ে তুলতে সমন্বিত আঞ্চলিক সহযোগিতা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসক্যাপ) কার্যকর সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পরিবেশমন্ত্রী শেজরা মানসাব আলী খান খারাল, মালদ্বীপের পরিবেশমন্ত্রী আলি শরীফ, এসক্যাপের নির্বাহী সচিব আরমিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানাসহ বিভিন্ন দেশের পরিবেশমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।