দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর সই করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়, শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ রাখা সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জন্য বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতিটি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসার সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের সূচি (ডিউটি রোস্টার) সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে অথবা ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরিচালিত তদারকি ও পরিদর্শন কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাধারণ রোগীদের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সেবার মান বৃদ্ধি করতে সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।