চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬-এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট অনলাইন প্রতারণা চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
সিটিটিসি জানায়, গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সিফাত আহমেদ সজিব (২২), মো. সালমান (২২), মেছবাউল আলম মাহিন (১৯) ও মো. মহিদুজ্জামান মুন্না (১৯)। তারা ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্রের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে ১০-১২ হাজার টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, তাদের দেওয়া প্রশ্নের সঙ্গে আসল পরীক্ষার প্রশ্নের কোনো মিল নেই। এটি ছিল শুধুমাত্র অনলাইন প্রতারণা—আর্থিক লাভ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান পরীক্ষায় কোনো প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো সব তথ্য ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক। একটি সংঘবদ্ধ চক্র শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অবৈধ লাভের চেষ্টা করছে। বোর্ড সবাইকে এসব গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
*কেন বোর্ড প্রেস রিলিজ দিল?*
গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ে এবং পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। পুলিশের অভিযান ও প্রযুক্তিগত যাচাইয়ের ভিত্তিতে বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে গুজব নাকচ করে জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এই বিজ্ঞপ্তি দেয়। শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলনও গুজবকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং এবার প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
একই দিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সময় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দলটি বলেছে, প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তারা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে দুর্বলতা তুলে ধরে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এনসিপির ফ্যাক্ট চেক না করে প্রেস রিলিজ দেওয়া ঠিক হয়নি। পুলিশ ও বোর্ডের স্পষ্ট অস্বীকৃতির পরও “লিক হয়েছে” বলে ধরে নেওয়া তথ্য যাচাইয়ের অভাব দেখায়। শিক্ষামন্ত্রী এনসিপির এই অযাচাইকৃত বিবৃতিকে “নিন্দনীয় ও হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।
*গুজবের আড়ালে কারা?*
তদন্ত অনুসারে গুজবের আড়ালে রয়েছে একটি ছোট অনলাইন প্রতারক চক্র। তারা ফেসবুক পেজ ও সম্ভবত টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্ন বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রকৃত প্রশ্ন ফাঁস হয়নি; এটি ছিল শুধু আর্থিক লাভ ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা। সিটিটিসির মনিটরিংয়ে চক্রটি ধরা পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের গুজব ঐতিহাসিকভাবে পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচিত শুধু বোর্ড ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করা। সোশ্যাল মিডিয়ার যেকোনো ‘লিকড প্রশ্ন’ দেখলে রিপোর্ট করুন। গুজবের পেছনে না ছুটে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে চলছে এবং নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।