তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র, সমাজ ও আধুনিক সভ্যতার এক অপরিহার্য আয়না। সেই আয়না যদি ত্রুটিমুক্ত না হয়, তবে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রকৃত চিত্রও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। তাই গণমাধ্যমের মূল শক্তি হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্য যাচাই এবং সত্যনিষ্ঠ প্রতিবেদন।
রোববার সকালে রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ইআরএফ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ব্যাংকখাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, রাষ্ট্র ও সমাজকে স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে হলে ফ্যাক্ট চেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। তথ্য যাচাইয়ের মেকানিজম ছাড়া গণমাধ্যম মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে না।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, ইউসিবি-এর সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের জেনারেল সেক্রেটারি আবুল কাশেম।
সেমিনারে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, ডেইলি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান জাহিদ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ।
ব্যাংকিং খাতের সুশাসন প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন নিশ্চিত না হলে শুধু গণমাধ্যমের উপস্থিতির কারণে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা হবে, এমনটি আশা করা যায় না। রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর সামগ্রিক সুশাসনের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় সংস্কার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিতে পারলে অর্থনীতির মূল প্রবাহ হিসেবে ব্যাংকিং খাতেও সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান ত্রুটি, অনিয়ম ও ক্ষত দূর করতে সরকার ‘ব্যাংকিং কমিশন’ গঠনের উদ্যোগ নেবে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য শুধু ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। পুঁজিবাজার বা শেয়ার বাজারকেও পুঁজির অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের যে দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন, তা আজ বিস্তৃত হলেও কিছু ‘নন-পারফর্মার’ আমানতকারী ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অর্থ টার্গেট করে অনিয়ম করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশে সাম্প্রতিক কড়াকড়ির প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিক কোন ফ্লোরে প্রবেশ করলেন, সেটি বড় বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার। তথ্য যেখানেই থাকুক, সাংবাদিকদের সেখানে পৌঁছানোর অধিকার থাকতে হবে। সব তথ্য উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ রাখাই সুশাসনের প্রথম শর্ত।
অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ পাহারাদারের ভূমিকা পালন করছে। মানুষের জানার অধিকার রক্ষা, নীতি-পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অনিয়ম চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী তৎপরতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে।
সেমিনারে ইআরএফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।