মহাখালীর DNCC হাসপাতালে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ও মনগড়া বর্ণনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, শিশুটি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সেপটিক শক, নিউমোনিয়া ও হাম (মিজলস) নিয়ে DNCC হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। চিকিৎসকেরা শিশুটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান।
কিন্তু সব প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, আনুমানিক সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে মৃতদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, শিশুটির বাবা মৃতদেহ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তিনি কোনো সহায়তা পাননি। তবে সংশ্লিষ্টরা এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। তারা জানান, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শিশুটির অভিভাবকেরা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছেন যে চিকিৎসকেরা আন্তরিকভাবে তার চিকিৎসা দিয়েছেন, কিন্তু শিশুটির অবস্থা এতটাই জটিল ছিল যে শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, যদি অ্যাম্বুলেন্স সহায়তার কোনো প্রয়োজন হয়ে থাকে, সেটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। DNCC হাসপাতালে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও গত তিন বছর ধরে কোনো চালক নিয়োগ বা দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।
এ বিষয়ে ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগ না হওয়ায় হাসপাতালের পক্ষে অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায়, একটি দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন মহল এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অযাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।
মহাখালীর DNCC হাসপাতালে শিশুমৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বর্ণনা ছড়ানো হচ্ছে
5
previous post