ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রশাসনিক কার্যক্রম, নাগরিক সেবা এবং আইন প্রয়োগে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৯টি নতুন অ্যাপ ও সফটওয়্যার উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, এসব প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনের বাস্তব পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
উদ্বোধনকৃত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, হোটেল বোর্ডার তথ্যব্যবস্থা, ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপসহ প্রশাসনিক ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন এআই-ভিত্তিক সিস্টেম চালুর ফলে সড়কে আইন ভঙ্গকারী যানবাহন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা যাবে। এতে প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতির সময়ক্ষেপণ ও জটিলতা কমবে এবং সীমিত জনবল দিয়েই কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ সম্ভব হবে।
ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে উন্নত ক্যামেরা স্থাপন করে ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই ডেটার ভিত্তিতেই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হোটেল বোর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি অতিথিদের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করা হবে। এতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি শনাক্ত, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
অন্যদিকে ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি পুলিশি সেবা গ্রহণ ও অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগগুলো ডিএমপি সদর দফতর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে, ফলে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
এ ছাড়া অনলাইন ট্রেনিং, লিভ ম্যানেজমেন্ট, ডিউটি বণ্টন ও কর্মীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন সংক্রান্ত সফটওয়্যারগুলো ডিএমপির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও গতিশীল করবে বলে জানানো হয়।