মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের কৃষকদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন কৃষকবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষকদের মাঝে কৃষিযন্ত্র ও কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ‘কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এবং ‘বি-স্ট্রং’ প্রকল্পের আওতায় কৃষক গ্রুপের মাঝে ধান কাটার যন্ত্র, ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, এলএলপি, ক্যানভাস পাইপ ও হ্যান্ড স্প্রেয়ার বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে কৃষকদের আরও স্বাবলম্বী করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষি ঋণ মওকুফ, কৃষক নিবন্ধন ও কৃষক কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। শ্রমিক সংকট মোকাবিলা ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে কৃষকদের সহায়তা দিচ্ছে। ইউনিয়নভিত্তিক কৃষক সংগঠনের মাধ্যমে এসব যন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, কৃষকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
এর আগে সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, দেশের কোনো জমি বা জলাশয় অনাবাদি রাখা হবে না। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে ব্যাপকহারে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ কৃষক-কৃষাণিরা উপস্থিত ছিলেন।