সাম্প্রতিক মৌসুমি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের এক হাজার পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি আশ্রয় উপকরণ হিসেবে ত্রিপল বিতরণ করা হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের বাসিন্দাদের অস্থায়ী আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং তাদের মালামাল রক্ষায় এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় আরও ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তা ও ত্রিপল বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ লিটার ভোজ্যতেল এবং একটি ত্রিপল দেওয়া হয়, যাতে তারা তাৎক্ষণিক খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তা পেতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
আইওএম বাংলাদেশের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, “বাংলাদেশজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় অসংখ্য পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, সম্পদ ও জীবিকা হারিয়েছে। আমাদের অগ্রাধিকার হলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং পুনরুদ্ধারের পথে তাদের পাশে থাকা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ঘনঘটা ও তীব্রতা বাড়তে থাকায় প্রস্তুতি ও সহনশীলতা জোরদারে বাংলাদেশ সরকার এবং অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যেতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আইওএম জানায়, চলমান মৌসুমি বৃষ্টিপাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তা পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রমেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে দুর্যোগের কারণে প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়। তাদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিল এবং বারবার জলবায়ুজনিত দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে।
বাঁশখালী ও পেকুয়ার এ জরুরি সহায়তা আইওএমের বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলা ও জলবায়ু সহনশীলতা কর্মসূচির অংশ। জরুরি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সংস্থাটি স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র উন্নয়ন, কমিউনিটির প্রস্তুতি বৃদ্ধি, কাঠামোগত ঝুঁকি হ্রাস, জলাধার পুনরুদ্ধার এবং জরুরি সাড়া কার্যক্রমে সহায়তা দিয়ে আসছে।
এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশাধিকার উন্নয়নে কাজ করছে আইওএম। সংস্থাটি জীবিকা পুনরুদ্ধার, দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে গবেষণা ও তথ্যসংগ্রহ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু অভিযোজন নীতিমালায় মানবগতিশীলতাকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগেও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
আইওএম জানায়, মৌসুমি বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও মানবিক সহায়তাকারী অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তুচ্যুতি প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং টেকসই পুনর্বাসনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ভবিষ্যতে মানবিক সংকট কমাতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, সহনশীল অবকাঠামো, আগাম প্রস্তুতি এবং কমিউনিটিভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।