বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার মধ্য দিয়ে এ সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু কাঁঠাল রপ্তানির সুযোগ নয়; বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির নতুন বাজার তৈরিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
চীনে কাঁঠাল রপ্তানির আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আম আমদানি শুরু করার সময়ই কাঁঠাল ও পেয়ারা আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছিল বেইজিং। সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে সেই প্রক্রিয়া এখন আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্বে কাঁঠালের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ চীন। বর্তমানে দেশটি মূলত ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে কাঁঠাল আমদানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ হলেও বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে এর অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম এবং রপ্তানি সীমিত হওয়ায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চীনের বাজার উন্মুক্ত হলে কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁঠাল শুধু ফল হিসেবেই নয়, চিপস, আচার, জেলি, কাঁঠালসত্ত্ব, আইসক্রিম, কেক এবং ভেজিটেবল মিটসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, চীনের সঙ্গে কাঁঠাল রপ্তানির উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য ফল ও কৃষিপণ্য রপ্তানির পথও সহজ করতে পারে।
তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে কাঁঠালের মান নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্যাকেজিং এবং দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রপ্তানিকারকরা মনে করেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলা গেলে কাঁঠাল বাংলাদেশের নতুন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যে পরিণত হতে পারে। [সূত্র: বিবিসি বাংলা]