জাপানের শ্রমবাজারে বাড়তে থাকা কর্মী সংকটকে সুযোগ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (SSW) কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন খাতে বড় পরিসরে জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্যে সরকার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে।
জাপান সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ভাষাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে এই বিশাল কর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশ অর্জন করতে পারে।
এখন পর্যন্ত সীমিত কয়েকটি খাতে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও, সরকার এবার সব খাতেই দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভাষা শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা এবং জাপানি সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা তৈরির মাধ্যমে কর্মীদের আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে বিশেষ সেল গঠন, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু কর্মসংস্থান নয়, শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য আরও বেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দক্ষতা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে জাপান বাংলাদেশের জন্য অন্যতম প্রধান কর্মসংস্থানের গন্তব্যে পরিণত হবে।