ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটি)-এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখল, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর সরকারের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার কথা থাকা সম্পদ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বহুজাতিক এ তামাক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যার ফলে বাংলাদেশ কয়েক দশকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, সহকারী পরিচালক সাজিদ-উর-রোমানের নেতৃত্বে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
দুদকে জমা হওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশভাগের পর পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি পূর্ব পাকিস্তানে কার্যক্রম শুরু করে এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বড় কারখানা স্থাপন করে। স্বাধীনতার পর এসব সম্পদ ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় যাওয়ার কথা থাকলেও পরে তা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও জালিয়াতির মাধ্যমে এ সম্পদ হস্তান্তর করা হয়েছিল। এতে রাষ্ট্রের প্রায় ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি দেশের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, অনুসন্ধান সংক্রান্ত সব তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২১ মে দুদক ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে কোম্পানিটির মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি তলব করেছে। একই সঙ্গে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের কাছেও কোম্পানির নিবন্ধন, মূলধন, শেয়ার কাঠামো ও পরিচালনা সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অনুসন্ধানের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে স্বাধীনতার পর পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং বহুজাতিক কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের পেছনে জালিয়াতির কোনো ঘটনা ছিল কি না।
বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ দেশের অন্যতম বড় বহুজাতিক তামাক কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ড দেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।