আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সীমাহীন লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এই লুটপাট আড়াল করতে আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে। ফলে এ খাত থেকে বিপুল অর্থ পাচার ও লুটপাটের অভিযোগ থাকলেও সাধারণ মানুষ তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায়নি। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসে ইউনূস সরকার। ইউনূস ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে। সাবেক এই আমলা ছিলেন নসরুল হামিদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি এই মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
কাজেই ২৪-এর ৫ আগস্টের পর ক্ষমতার পালাবদল হলেও বিদ্যুৎ এবং জ্বালানিনীতি একই রকম ছিল। ইউনূস সরকার এ খাতে নতুন করে লুটপাট শুরু করে। ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসে অনেক বিষয়ে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতীতের ধারাই অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান সময়ে ভয়াবহ লোডশেডিং ইউনূস সরকারের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, একটি নির্বাচিত সরকারকে জনরোষের শিকার করার জন্য ইউনূস সরকারের নীলনকশার কারণে এখনকার লোডশেডিং।
ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিল, বেসরকারি খাতে লাইসেন্স দেওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা যাচাই করা হবে। যেগুলো অচল কিন্তু নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জের নামে নিয়মিত টাকা নিচ্ছে, সেগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কিন্তু ফাওজুল কবির হুংকার দিয়ে এসব বেশির ভাগ অলস বসে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করেননি। এর পেছনে ছিল মোটা অঙ্কের লেনদেন। ইউনূস সরকারের ২০১০ সালের দায়মুক্তি আইন বাতিলের অধ্যাদেশ একটি হাস্যকর ও প্রতারণার দলিল। সেখানে বলা হয়েছে, দায়মুক্তির আইনে যেসব প্রকল্প এবং চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলো এমনভাবে অব্যাহত থাকবে যেন দায়মুক্তি আইন বাতিল হয়নি। তার মানে আগের প্রকল্প ও চুক্তি সবই অব্যাহত থাকবে। ২০১০ সালে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া কাজ দিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এ আইনের অধীন কোনো সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না-এমন বিধান থাকার কারণে এটি দায়মুক্তি আইন হিসেবে পরিচিতি পায়। ২৪-এর ২৮ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ আইনের অধীন সম্পাদিত সব চুক্তি বা চুক্তির অধীন নেওয়া কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে বলে গণ্য হবে। ওই সব চুক্তির চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আবার দেড় বছর ক্ষমতায় থাকলেও ইউনূস সরকার একমাত্র আদানিকে কিছু টাকা পরিশোধ করা ছাড়া এই খাতে সবকিছু করেছে বাকিতে। কয়লা আমদানিতে বাকি, ক্যাপাসিটি চার্জে বাকি, গ্যাস আমদানিতে বাকি। ফলে বিপুল পরিমাণ বকেয়া ঋণের বোঝা রেখে বিদায় নিয়েছেন ইউনূস। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বিপুল পরিমাণ ঋণ পরিশোধের চাপে পড়েছে। এখন সরকারকে কেউ বাকিতে কিছু দিচ্ছে না। ফলে কয়লা ও গ্যাসের অভাবে অনেক কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ।
ইউনূস সরকার বিদ্যুৎ খাতে বেশ কিছু দেশের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময় জাতীয় গ্রিডে দিনে সর্বোচ্চ ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে এসেছে। অথচ ইউনূস সরকার ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করে গেছে। দায়মুক্তির আইনের আওতায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, এমন যুক্তিতে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হয়। তৎকালীন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বিদ্যুৎ বিভাগের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পাইপলাইনে থাকা সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগের ৩৭টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করা হয়েছিল। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩ হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট। যদিও বেসরকারি খাতে এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ট) বা প্রাথমিক অনুমতিপত্র ইস্যুকৃত কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স ফেরত পেতে নানা জায়গায় ধরনা দেয় বিনিয়োগকারী দেশিবিদেশি কোম্পানিগুলো। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। বরং ইউনূস সরকার এগুলোর পরিবর্তে নতুন করে ৫৫টি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র আহ্বান করে। ৫ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াটের জন্য দরপত্র আহ্বান করেও তেমন কোনো সাড়াই পাওয়া যায়নি। ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য দরপত্র জমা পড়ে, যেগুলোর সক্ষমতা ছিল মাত্র ৯০০ মেগাওয়াট। বিনিয়োগকারীদের ওই অনাগ্রহের মূল কারণ ছিল ‘সভরেন গ্যারান্টি’ না থাকা। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রকল্পের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এ গ্যারান্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তাঁরা। ইউনূস সরকার সভরেন গ্যারান্টি না দেওয়ায় নতুন দরপত্র নিয়ে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাতিল করা নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর এলওআই ইস্যু করা হয়েছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে। এর মধ্যে ২৭টি ছিল সৌরবিদ্যুতের, তিনটি বায়ুবিদ্যুৎ ও একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটির জন্য জমি অধিগ্রহণ চলছিল।
ওই ২৭টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৪০৪ মেগাওয়াট। এগুলোর বেশির ভাগই রংপুর, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে নির্মাণের কথা ছিল। আর বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র তিনটি ফেনীর সোনাগাজী, সাতক্ষীরার আশাশুনি এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় নির্মাণের কথা। এ তিনটির সক্ষমতা ছিল যথাক্রমে ৩০, ১০০ ও ২২০ মেগাওয়াট। আর বর্জ্য থেকে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাণের কথা ছিল।
অন্যদিকে দরপত্র মূল্যায়নাধীন অবস্থায় ছিল পিডিবির তিনটি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র। এগুলোর সক্ষমতা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৬, ২০ ও ৫০ মেগাওয়াট। প্রথমটি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে, দ্বিতীয়টি বড়পুকুরিয়ায় ও তৃতীয়টি রাঙ্গুনিয়ায় নির্মাণের কথা ছিল। এর বাইরে মহেশখালীতে যৌথ উদ্যোগে ১৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্রও মূল্যায়নাধীন ছিল। আর বেসরকারি খাতে কক্সবাজারের ইনানীতে ৫০ মেগাওয়াট ও চাঁদপুরে ৫০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র আহ্বানের পর বাতিল করা হয়েছিল। পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়ায় থাকা এ দুটি কেন্দ্রের অনুমোদনও বাতিল করা হয়। পিডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাতিল করা ৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবগুলোই ছিল দায়মুক্তির আইনের অধীনে প্রক্রিয়াধীন। সেগুলো বাতিল করা হলেও একই আইনের অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এটি মূলত সরকারের দ্বৈত নীতি। বরং সে সময় এসব প্রকল্প বাতিল না করলে বর্তমানে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে চলে আসত। এতে দিনে বিদ্যুতের সংকট তেমন থাকত না।
আর এ কারণেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের বিদ্যুৎ খাতকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আর সেই অবস্থা থেকে বাঁচতে ইউনূস সরকারের আমলে বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ প্রকল্পের লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা সম্মতিপত্র পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাত আগেই নাজুক অবস্থায় ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ কার্যত এটিকে আইসিইউতেই পাঠিয়ে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ৩৭টি এলওআই বাতিল করা হয়েছে, যেখানে প্রকল্পগুলো চালু রাখা বা পুনরায় আলোচনা করার কথা ছিল। এতে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে
এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করলেও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করেনি ইউনূস সরকার। তারা রামপাল নিয়ে পরিষ্কারভাবে বলেছে, এসব প্রকল্প বাতিল করা খুবই কঠিন বিধায় প্রকল্পগুলো বাতিল করার কোনো সিদ্ধান্ত তারা নিচ্ছে না। অন্যান্য প্রকল্প তো বটেই, সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্প ভয়ংকরভাবে বাংলাদেশকে অস্থির করে দিচ্ছে। জনসম্মতির বিরুদ্ধে গিয়ে, পরিবেশ অধিকার লঙ্ঘন করে ও বিশ্ব ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত করে রামপাল প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এটা বাতিল করার যুক্তি, উদ্যোগ নেওয়ার অনেকগুলো উপায় আছে। ইউনূস সরকার কোনো চেষ্টা না করেই বলে দেয় যে এটা বাতিল করা যাবে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লুটপাট হবে আর ড. ইউনূস তাতে শামিল হবেন না, তা কী করে সম্ভব?
গত বছরের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সফর চলাকালীন ২৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসংক্রান্ত একটি নন-বাইন্ডিং চুক্তি সই করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এ চুক্তিটিকে জ্বালানি খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া একটি ভুল এবং দেশের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ। এলএনজি টার্মিনাল আমাদের জন্য বোঝা। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও কয়েকদিন পরপর নষ্ট হচ্ছে টার্মিনালগুলো। তাদের ওপর নির্ভরশীল থাকায় গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ ও শিল্পকারখানার উৎপাদন। ইউনূস নিজে লাভবান হওয়ার জন্য এই চুক্তি করে জ্বালানি খাতে আরেকটি বিপর্যয় তৈরি করেছেন। চুক্তির বিষয়ে পেট্রোবাংলা জানে না। তার মানে কী রকম একটা অস্বচ্ছ প্রচেষ্টা! এ চুক্তির পেছনে কী কোনো টেন্ডার হলো? এ কোম্পানিকে বাছাই করা হলো কীভাবে? পুরো প্রক্রিয়াটাই আওয়ামী লীগের আমলের ধরনেরই।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার যখন দায়িত্ব নেয় তখন বিদ্যুৎ খাতে দেশিবিদেশি কোম্পানির কাছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হিসাবে ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে তাদের। ইউনূস সরকার দেড় বছরের শাসনকালের মধ্যে আট মাস বেসরাকারি কোম্পানিগুলোকে বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করেনি।
অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই মাসের পর থেকে ইউনূস সরকার আর কোনো বিল পরিশোধ করেনি বলেও জানান বেসরকারি উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন, এ পরিস্থিতি নতুন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার ইচ্ছাকৃত এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে কি না, সে সন্দেহের কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। দেড় বছরের ইউনূস ও ফাওজুল বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতকে নিঃস্ব ও দেউলিয়া করে দিয়েছেন। পরিকল্পিতভাবে তাঁরা এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন, যাতে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই বিদ্যুৎ নিয়ে জনরোষের মুখে পড়ে। ইউনূস কি তাহলে আরও ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ খাতকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন?