রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সেজে উঠছে ঠাকুরগাঁও শহর। শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন প্রবেশপথ সাজানো হচ্ছে বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে। সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় দেওয়া হচ্ছে নতুন রং, পাশাপাশি চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। এই আয়োজনের কারণ, নিজ জেলায় দুই দিনের সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটি তাঁর প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর, আর এই সফরকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এরপর থেকেই আনন্দে উচ্ছ্বসিত তাঁর জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওবাসী।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সফরের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতসহ বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক বড় মাঠে জেলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা। নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মোহাম্মদ খাইরুল কবির জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি।
সাজসজ্জার পাশাপাশি পুরো শহরকে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তার চাদরে। পুলিশ জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয়।
পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে এসে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর প্রথম সফরকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার মানুষের প্রত্যাশাও এখন অনেক বেশি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ চান ঠাকুরগাঁওবাসী। একই সঙ্গে তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে বলেও প্রত্যাশা স্থানীয়দের।