মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢল কমে গিয়ে জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।ধরলার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৩ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার ও দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া ও চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, চর লুছনি ও ফান্দরচর, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ঢেবঢেবীর চর, কাঠগিরী, কৃষ্ণপুর এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নিচু এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মিয়াপাড়া, মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ সড়ক ডুবে গিয়ে ওপর দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়াও দুধকুমার নদের পানি বেড়ে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘গতকাল সোমবার বিকেল থেকে জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাগেশ্বরী উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকায় ডুবে যাওয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় আমরা জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এনেছি।কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘জেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য নগদ ২ লাখ টাকা এবং ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’