দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল শক্তি হিসেবে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আজকের এই শিশু-কিশোররাই একদিন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে নতুন উচ্চতায়।
শনিবার বিকেলে সিলেট স্টেডিয়াম-এ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি একযোগে দেশের ৬৪ জেলায় শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু বইয়ের পড়াশোনা নয়, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমেও নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। কেউ খেলোয়াড় হতে চাইলে সে খেলোয়াড় হবে, কেউ সংগীত বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে আগ্রহী হলে সেই সুযোগও তৈরি করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, গ্যালারিতে বসে থাকা প্রতিটি শিক্ষার্থীই দেশের একজন প্রতিনিধি। ভবিষ্যতে তারাই সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, এমনকি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বেও আসতে পারে। তাই এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “তোমরা কি পারবে দেশের দায়িত্ব নিতে?” জবাবে শিক্ষার্থীরা একযোগে “হ্যাঁ পারবো” বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। এতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই আত্মবিশ্বাসই দেশের শক্তি।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ধারণা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে আলোচনার মাধ্যমে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা শুরু হয়। পরে সেটিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলায় আকর্ষণীয় প্রদর্শনী উপস্থাপন করে। পরে ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ শিরোনামের থিম সং পরিবেশন করা হয়।
উদ্বোধনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ট্রফি ও লোগো উন্মোচন করেন এবং মাঠে গিয়ে প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অনুসন্ধানমূলক উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।