চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, কৃষির প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের বামনশাহী খাল খনন কার্যক্রমের শুরু হয়েছে, এবং এখানে ৫৪টি খালের ১২৮ কিলোমিটার খনন করা হবে। ইতোমধ্যে ৬২ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ইট প্রস্তুতির জন্য মাটির উপরের অংশ কাটা হয়, কিন্তু এ বছর আমাদের প্রস্তাবনা হচ্ছে যে খননকৃত খালের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা হোক। এতে যেমন মাটির কার্যকর ব্যবহার হবে, তেমনি কৃষিজমির টপসয়েলও রক্ষা হবে।”
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও প্রচার কার্যক্রম’-এর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, নারীর জন্য গাড়ির সুফল সম্পর্কে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
এ সময় তিনি জানান, হাটহাজারী উপজেলায় শীঘ্রই ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে কৃষক কার্ডের কার্যক্রমও অল্প কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে।
চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে ২০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জেলা প্রশাসক বলেন, “খননকৃত খালের মাটি যেন আবার খালে না ফিরে আসে, সে বিষয়ে তদারকি করা হবে। এছাড়া সিএস বা আরএস জরিপ দেখে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যেসব খাল বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেগুলোও খনন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “খাল খননের জন্য প্রথমে কৃষির গুরুত্ব বিবেচনা করা হবে। যেসব খালের মাধ্যমে কৃষি সেচ ব্যবস্থা এবং মৎস্য চাষ সহজ হবে, সেগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা হবে। তবে পর্যায়ক্রমে সব খালই খনন করা হবে।”
জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দূর করতে এবং যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা পলিথিন না ফেলার বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।”
এ সময় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আয়েশা সিদ্দীকা সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন, মো. কামরুজ্জামান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।