চীনের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সাড়া দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী বেইজিং সফরের সময় এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সভ্যতা ও সুশাসন—এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘোষণা দেয় চীন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দাবি, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের বিপরীতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে চীন।
গত কয়েক বছর ধরে ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কোনো নির্দিষ্ট জোটে না গিয়ে কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে জাতীয় স্বার্থে যেকোনো উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের চীন সফরেই চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, উন্নয়ন বা নিরাপত্তা উদ্যোগগুলোকে বাস্তব রূপ দেওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠিন। এসব উদ্যোগে যুক্ত হলে চীন সন্তুষ্ট হলেও বাংলাদেশের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যের কূটনীতিও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওবায়দুল হক বলেন, চীন কীভাবে এগোতে চায় এবং বাংলাদেশ কতটা যুক্ত হবে—সেই সিদ্ধান্ত ঢাকাকেই নিতে হবে। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর সঙ্গে কোনো উদ্বেগ তৈরি হলে আলোচনার মাধ্যমেই তা সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলোচনা অনেক কঠিন বিষয়কেও সহজ করে দিতে পারে।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।