নেক কাজ নেক কাজের সহায়ক, আর গুনাহ গুনাহের সহায়ক। একটি ভালো কাজ করলে তা আরেকটি ভালো কাজের পথ খুলে দেয়। অন্যদিকে একটি গুনাহ টেনে আনে আরও পঞ্চাশটি গুনাহ। যেমন কাউকে হত্যা করতে চাইলে আগে ভাবতে হয়—কী অস্ত্র লাগবে, তা কোথায় পাওয়া যাবে, কত টাকা লাগবে। এভাবে একটি গুনাহের সঙ্গে জড়িয়ে যায় আরও অনেক গুনাহ। নেক আমলও ঠিক তেমন—একটি নেক কাজ ডেকে আনে আরও অনেক নেক কাজ।
যেমন কেউ যদি নিয়ত করেন কোনো দীনি মজলিশে আসবেন, তাহলে তাঁকে দুটি কাজ করতে হয়—রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসা এবং মজলিশে বসা। সব ব্যস্ততা ছেড়ে তিনি আসেন, আলোচনা শোনেন, আর মনে জাগে নতুন সংকল্প—বাসায় গিয়ে আমল করব, অন্যকেও আমলের কথা বলব। এভাবে একটি নেক আমলের সঙ্গে জড়িয়ে যায় আরও অনেক নেক আমল—পথ হাঁটা, মজলিশে বসা, ধৈর্য ধরে শোনা—প্রতিটিই আলাদা আলাদা নেক আমল।
প্রত্যেক বান্দার মনে বিশেষ কোনো একটি নেক আমলের প্রতি অন্য আমলের চেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে। তাই জান্নাতে একাধিক গেট থাকলেও দুনিয়াতে যে আমলের প্রতি বেশি টান ছিল, বান্দা সেই আমলের জন্য নির্দিষ্ট গেট দিয়েই প্রবেশ করবে।
কোরআনে বলা হয়েছে, কাফের ও পাপীদের জোড়ায় জোড়ায় সমবেত করার নির্দেশ দেবেন আল্লাহ, তাদের উপাস্যদেরও উপস্থিত করা হবে। যারা সূর্য, গাভি, তুলসী গাছ, চন্দ্র বা মানুষের উপাসনা করেছে, আল্লাহ ও রসুলের পথ ছেড়ে নেতাদের অনুসরণ করেছে—সবাইকে হাজির করা হবে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না কেন? অথচ সেদিন কারও কোনো বন্ধু বা সাহায্যকারী থাকবে না।
হজরত আয়েশা (রা.)-কে একবার রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, হাশরের ময়দানে সব নারী-পুরুষ উলঙ্গ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকবে। একথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করেছিলেন আয়েশা (রা.)। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, তাহলে কি একজন অপরজনের দিকে তাকাবেও না? জবাবে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, দুনিয়াতে নারীদের সবচেয়ে বড় কষ্টের সময় হলো সন্তান প্রসবের সময়—এতটাই কষ্টকর যে এতে মৃত্যু হলে নারী শহীদের মর্যাদা পান। কিন্তু হাশরের ময়দানের যন্ত্রণা এত তীব্র হবে যে সেদিন প্রসবব্যথার কথাও মনে থাকবে না। ভয়ের মুহূর্তে মানুষ ছোট বিপদের কথা ভুলে যায়—হাশরের ময়দানেও তেমনটাই ঘটবে। সেদিন সবাই নিজের অবস্থা নিয়ে এতটাই চিন্তিত থাকবে যে কেউ কারও দিকে তাকাবে না বা সাহায্য করবে না।
সেদিন মানুষ একে অপরকে দোষারোপ করবে। সন্তান বলবে মা-বাবাকে, তোমরা আমাকে ধ্বংস করেছ। ছাত্র বলবে শিক্ষককে, আপনার ভুল দিকনির্দেশনায় আমার জীবন নষ্ট হয়েছে। মুরিদ বলবে পীরকে, আপনি শুধু আমার পকেটের দিকে তাকাতেন, আজ বিপদে পড়েও আপনার দেখা নেই। কিন্তু এই দোষারোপে কোনো লাভ হবে না। অনেকে পীরের মুরিদ হয়েও গুনাহ ছাড়ে না, এমনকি বলে বেড়ায়—হুজুর জাহান্নামে গেলে আমিও যাব। প্রকৃত হেদায়েত না বুঝে ভ্রান্ত পথপ্রদর্শকদের অনুসরণ করাটাই এদের সবচেয়ে বড় ভুল। জান্নাতে যাওয়া এত সহজ নয়।