প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ১০টি নির্দেশনার বাস্তবায়নের ফলে এবারের ঈদুল আজহার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনগণের স্বস্তি ও সুবিধাকে কেন্দ্র করে সরকার ঈদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ছিল নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা।
তিনি বলেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ঈদকে কেন্দ্র করে নাগরিক সেবার মান উন্নত হয়েছে এবং জনগণ প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রতিফলন দেখতে পেয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার পর জনগণ এবার উপলব্ধি করেছে যে রাষ্ট্র তাদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল।
মাহদী আমিন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এক সপ্তাহের সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছিল। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধে সরকার, ব্যাংক ও মালিকপক্ষের সমন্বয় কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ রোধ করে দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়। ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পশুর হাটে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঈদকেন্দ্রিক সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ঈদের পুরো সময়জুড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করেছেন। বিশেষ করে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন তিনি।