বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করতে যাচ্ছে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশ থেকে আনফিল্টার্ড ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানান, সরকারের অনুমোদনের পর স্টারলিংককে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্টারলিংক তাদের সিঙ্গাপুর, ওমানসহ বিভিন্ন দেশের নেটওয়ার্ক হাবের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এটি বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের গ্রাহকদের সরাসরি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার বিষয় নয়; বরং এক নেটওয়ার্ক হাব থেকে আরেক হাবে আন্তর্জাতিক ডেটা পরিবহনের বিষয়।
তিনি আরও জানান, স্টারলিংকের মতে, প্রচলিত ফিল্টারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ডেটা পরিবহন করলে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক ট্রানজিট সংযোগের জন্য তারা আনফিল্টার্ড ইন্টারনেট পরিবহনের অনুমতি চেয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অনুমতির ফলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ডেটা কানেকটিভিটির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ডেটা কানেকটিভিটি হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে নন-জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট অরবিট (এনজিএসও) সেবা দিতে ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল বিটিআরসির লাইসেন্স পায় স্টারলিংক। পরে দেশটিতে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের দুটি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে অপারেটরের কাছ থেকে ৮০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে ডেটা ট্রাফিক পরিবহনের জন্য আইপিএলসি সংযোগ ও আনফিল্টার্ড আইপি ট্রানজিট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আসছিল স্টারলিংক। কারিগরি পর্যালোচনা ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সম্প্রতি বিটিআরসি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র দেয়।
অনুমোদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) স্টারলিংককে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করবে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ থেকে আনফিল্টার্ড ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারতের বিএসএনএলকেও বাংলাদেশ থেকে আনফিল্টার্ড আইপি ট্রানজিট সেবা দেওয়া হয়েছিল।