জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও দেশের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের অবস্থানও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরবেন। দেশের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলোও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফর কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা শক্তি প্রদর্শনের জন্য নয়; বরং দেশের মানুষের জন্য কাজ করা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাই সফরের মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় গুরুত্ব পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, এবারের সফরও রাখা হয়েছে সংক্ষিপ্ত পরিসরে। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ও ফেরার জন্য এক দিন করে সময় রেখে মোট চার দিন নিউইয়র্কে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, জাতিসংঘের কর্মসূচি ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা, জাতীয় স্বার্থ, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। এরপর তিনি সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন।