দেশের সমুদ্র অর্থনীতিতে (ব্লু ইকোনমি) বিনিয়োগ বাড়াতে আটটি অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রভিত্তিক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে ব্লু ইকোনমির অবদান আরও বাড়বে। বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। কৃষিজ জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ২২ শতাংশ।
সরকার যে আটটি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, সেগুলো হলো—মেরিন ফিশ হ্যাচারি, অফশোর কেজ ফার্মিং, বাণিজ্যিক সি-উইড খামার, আধুনিক ল্যান্ডিং সেন্টার, সিফুড প্রসেসিং পার্ক, কোল্ড-চেইন ও রেফ্রিজারেটেড লজিস্টিকস, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি সিস্টেম এবং অ্যাকুয়াকালচার প্রযুক্তি ও অটোমেশন।
মৎস্য অধিদপ্তরের ব্লু ইকোনমি বিভাগের উপপরিচালক ড. মুহাম্মদ তানভীর হোসেন চৌধুরী বলেন, আটটি প্রকল্প একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। মেরিন ফিশ হ্যাচারিতে উন্নতমানের মাছের পোনা উৎপাদন হবে। অফশোর কেজ ফার্মিংয়ের মাধ্যমে সমুদ্রে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা যাবে। সি-উইডসহ অন্যান্য সামুদ্রিক সম্পদের উৎপাদনও বাড়বে।
তিনি বলেন, আধুনিক ল্যান্ডিং সেন্টার মাছের গুণগত মান ঠিক রাখতে সাহায্য করবে। সিফুড প্রসেসিং পার্ক ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণে সহায়তা করবে। ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু মাছ চাষ নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাতেই বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। হ্যাচারি, মাছের খাদ্য উৎপাদন, খামারের সরঞ্জাম, কোল্ড-চেইন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, পরিবহন, স্মার্ট মনিটরিং, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণেও বিনিয়োগ করা যাবে।
কক্সবাজার-টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী-সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপ-নোয়াখালী উপকূল এবং খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলকে মেরিকালচারের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সামুদ্রিক মাছ, সি-উইড, ঝিনুক ও কাঁকড়া চাষের ভালো সুযোগ রয়েছে।
ইতোমধ্যে সামুদ্রিক মাছ, সি-উইড, শেলফিশ ও কাঁকড়া চাষে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হয়েছে। নতুন প্রজাতি নির্বাচন, হ্যাচারি উন্নয়ন, স্মার্ট অ্যাকুয়াকালচার এবং আইওটি-ভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনা নিয়েও গবেষণা চলছে। এতে ভবিষ্যতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সিফুডের বড় সম্ভাবনাময় বাজার। দেশে ইতোমধ্যে প্রসেসিং প্ল্যান্ট, কোল্ড স্টোরেজ, বন্দর, সড়ক যোগাযোগ, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক রপ্তানি সনদ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ব্লু ইকোনমিকে আরও এগিয়ে নিতে জাতীয় মৎস্যনীতি ২০২৬, মেরিন ফিশারিজ আইন ২০২০, মেরিন ফিশারিজ রুলস ২০২৩, ২০২৬-২০৩৫ সময়ের কৌশলগত পরিকল্পনা, মেরিন স্পেশাল প্ল্যানিং (এমএসপি), সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।