তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, অপতথ্য ও ভুল তথ্যের বিস্তার ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র, সবার জন্যই ক্ষতিকর। তাই এসব বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ও সতর্ক ভূমিকা নিতে হবে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীতে চ্যানেল আই অনলাইনের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘অ্যালগরিদম যুগে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি চ্যানেল আই ভবনের ছাদ বারান্দায় অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে অনলাইনে তথ্যপ্রবাহ অনেক দ্রুত ও ব্যাপক। এই বাস্তবতায় সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ ভুল বা অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চ্যানেল আই অনলাইন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও এ ক্ষেত্রে কার্যকর অবদান রাখবে।
নিজের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর বলতে শুধু অনলাইনে উপস্থিতি বোঝায় না। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বড় আর্থিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ। তিনি জানান, বাংলাদেশে গণমাধ্যমকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও ডিজিটাল কাঠামোয় উন্নীত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয় এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চ্যানেল আই অনলাইনের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান ছিল, ‘ভয়হীন স্বাধীন সাহস’। অনুষ্ঠানে মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক এবং চ্যানেল আইয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খান।
এ আলোচনায় আরও অংশ নেন কবি ও শিক্ষক আফরোজা সোমা, সাংবাদিক শওকত হোসেন মাসুম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইমরান হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চ্যানেল আইয়ের চিফ নিউজ এডিটর মীর মাসরুর জামান রনি।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সেরা সংবাদকর্মীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে চ্যানেল আই অনলাইনের ১২ বছরে পদার্পণ উদযাপন করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।