যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৩ ডলারে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে।
বিশ্ববাজারে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১০৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ১০৩ ডলার স্পর্শ করে। সম্প্রতি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনে হামলার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। কবে এটি আবার চালু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। এতে বিশ্ববাণিজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্ধারিত বৈঠকটি রোববার বিকেলে স্থগিত করা হয়। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর স্বার্থে বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, সৌদি আরবের অনুরোধেই বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন অত্যন্ত সীমিত। রোববার মাত্র ১৪টি, শনিবার ১২টি, শুক্রবার ১১টি এবং বৃহস্পতিবার ৯টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানির বাজারেও। সোমবার দেশটিতে সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাধারণ পেট্রোলের দাম ৪৫ শতাংশের বেশি এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি। ট্রাক, জাহাজ ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এই জ্বালানি। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামে।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়াঙ্ক সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ডিজেলের বাড়তি খরচ বাজারের প্রায় সব পণ্য ও সেবার ওপর প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: এনবিসি