দেশে শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিশু অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা ২৬টি জাতীয় এনজিওর সমন্বয়ে গঠিত ‘শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ (সিএসএ প্রিভেনশন) নেটওয়ার্ক’।
রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ উদ্বেগ জানিয়ে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা শুধু একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেয় না, বরং এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতার প্রতিফলন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে শিশু নির্যাতনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ৪৬ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং ১৭ জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম চার মাসেই শতাধিক নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে।
এ পরিস্থিতিকে “গভীর সংকট” উল্লেখ করে সংগঠনটি ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, শিশু নির্যাতনের মামলায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুরক্ষা কমিটি গঠন, অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার, পৃথক শিশু অধিদপ্তর ও কমিশন গঠন এবং কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ।
সংগঠনটি আরও বলেছে, শিশুদের সুরক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সচেতনতা বৃদ্ধি ও জাতীয় পর্যায়ে তথ্যভান্ডার গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।