নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে দল পুনর্গঠন এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। ২০২৫ সালের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় দলীয় সভা, সমাবেশ, প্রচার, অনলাইন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ২০২৬ সালের আগস্টেও বাংলাদেশ সরকার ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছিল, শেখ হাসিনা কিংবা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার বা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন।
এর আগে শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও ঢাকা ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছিল। তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে হচ্ছে এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ওই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামতকে সমর্থনও করে না।
তবে ১৮ সেপ্টেম্বরের কথিত বৈঠক নিয়ে এখনো ভারতের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে বৈঠকটি যদি অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেটি নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান কী—এ প্রশ্নই সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ভারত অতীতে শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের সরকারি সম্পৃক্ততা আলাদা করে দেখিয়েছে। ফলে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠককে ঘিরে ভারতের অবস্থান নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের আইনে নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ভারতের ভূখণ্ডে সাংগঠনিক বৈঠক করলে এ বিষয়ে নয়াদিল্লি কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, কিংবা এটিকে তারা কীভাবে দেখছে—তা এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠক শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় কি না এবং হলে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসে কি না, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।