সিলেট অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জকে কেন্দ্র করে পর্যটন খাতের উন্নয়নে শিগগিরই একটি পর্যটন সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হবে।
শনিবার জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সিলেটের এই অঞ্চলগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের বিপুল সুযোগ রয়েছে। পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
তিনি জানান, জৈন্তাপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ীকে সংরক্ষণ করে জাদুঘরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জৈন্তাপুর পৌরসভার কার্যক্রম বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক কর্মী বিদেশে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এ কারণে বিদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহীদের জন্য পৃথক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় তিনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশনা দেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী জৈন্তাপুরের বিভিন্ন দর্শনীয় ও পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।