যিনি একসময় প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে ইসরায়েলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিতেন, সেই সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদই এবার ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগে গৃহবন্দি হয়েছেন।
মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাতে সোমবার (১৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরকারকে হটিয়ে আহমাদিনেজাদকে আবারও তেহরানের ক্ষমতায় বসানোর একটি গোপন মাস্টারপ্ল্যান করেছিল ইসরায়েল। আর এই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে সামরিক বাহিনীর কঠোর হেফাজতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, ২০১৩ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তীব্র দূরত্ব তৈরি হয় আহমাদিনেজাদের। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, স্বাভাবিক নিয়মে আর কখনোই ইরানের শীর্ষ ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না। মূলত আবারও রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার মোহ থেকেই তিনি বিদেশি শক্তির সাহায্য নেওয়ার এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। এর সূত্র ধরে ২০২২ সাল থেকেই আহমাদিনেজাদকে দলে টানার কাজ শুরু করে মোসাদ। পরবর্তীতে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে হাঙ্গেরিতে জলবায়ু সম্মেলনের আড়ালে মোসাদ প্রধানের সঙ্গে দুটি গোপন বৈঠকও করেন তিনি।
পত্রিকাটির দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনই এক নাটকীয় ঘটনা ঘটে। আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দী দশা থেকে মুক্ত করতে তার দেহরক্ষীদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ইসরায়েলের আসল ভূরাজনৈতিক কৌশল বুঝতে পেরে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
এই ঘটনার পর থেকে আহমাদিনেজাদ কোথায় আছেন, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়। সবশেষ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় তাকে কড়া সামরিক পাহারার মধ্যে দেখা গিয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন সম্পর্কের সব তথ্য জেনে যাওয়ায় এখন তাকে সাধারণ মানুষের নজর থেকে দূরে সরিয়ে কঠোর সামরিক হেফাজতে বন্দি রাখা হয়েছে।