অবশেষে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান শিক্ষামন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া স্ট্যাটাসে ধর্মেন্দ্র নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াও বিক্ষোভকারীদের আরও দুটি দাবি ছিল। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ। সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি জানায়, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানান, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নাড্ডা আরও বলেন, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কেন্দ্র শিগগিরই নির্ধারণ করবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের পর এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘যন্তরমন্তর এবং সারা দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে যেন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার কাজে তাদের সময় ব্যয় করতে পারে, এসব বিষয় বিবেচনা করে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পর নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ গান গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।
বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেনুগোপাল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের তরুণদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের শক্তিই অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও দায়ী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। এটি জনগণের জয় এবং জবাবদিহির দাবিতে লড়াই করা সবার বিজয়।’
আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, দিল্লির যন্তরমন্তরে বিজয় উৎসবের ঢেউ বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, কলকাতাতেও লেগেছে। গতকাল কলকাতার হাওড়া ময়দানে ছাত্রছাত্রীরা খুশিতে পথচারীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন।