দেশে তীব্র লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে জনভোগান্তি বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সরকারের সমালোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমান সংকটের পেছনে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, LNG টার্মিনালের ক্ষতি, কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন, বৈরী আবহাওয়া, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি এবং বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের বকেয়াসহ একাধিক কারণ রয়েছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীর একটি ভাসমান LNG টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়। টার্মিনালটি মেরামতের পর ইতোমধ্যে আংশিক গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে সরবরাহ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
গ্যাস সংকটের পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রপথে কয়লা খালাসে বিলম্ব এবং বন্যার কারণে কয়লা পরিবহন ও সংরক্ষণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটিও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের একাধিক ইউনিট বন্ধ থাকায় সেখান থেকেও প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের বকেয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা পরিশোধে বিলম্বের কারণে জ্বালানি সংগ্রহ ও উৎপাদন কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে। এ বকেয়ার বড় অংশ পূর্ববর্তী সময়ের বিভিন্ন বিদ্যুৎ ক্রয় ও চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবও LNG সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে। ফলে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান লোডশেডিংকে শুধু সরকারের ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত বা ব্যর্থতার ফল হিসেবে দেখলে সংকটের প্রকৃত কারণগুলো পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। LNG সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া, কয়লা সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু হলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।