সৌদি আরবের তেল পরিবহন পাইপলাইনে ড্রোন হামলার প্রভাব এবার ইউরোপের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। হামলার পর আগামী মাসে ইউরোপের দুটি তেল শোধনাগারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরামকো। এতে সৌদি তেলের ওপর নির্ভরশীল ইউরোপের কয়েকটি শোধনাগারে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে।
ফাইন্যানশিয়াল পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, আগামী মাসে ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। তবে তথ্যটি প্রকাশ্যে না আসায় তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলো সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল কিনে থাকে। এ বিষয়ে আরামকোর কাছে জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ড্রোন হামলার পর গত সপ্তাহে সৌদি আরবকে দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে হয়। পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি বুধবার জানান, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটির কিছু অংশ আবার চালু করা হতে পারে। তবে পুরো পাইপলাইন স্বাভাবিকভাবে চালু করতে প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব থেকে ইউরোপে তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপের কয়েকটি তেল কোম্পানি বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলো সাধারণত মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির মাধ্যমে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। বন্দরটি একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।
পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আরামকোর কয়েকজন গ্রাহকের মধ্যে তেল মজুত করার তৎপরতা বেড়েছে। সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় তারা দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজছে।
পোল্যান্ডের তেল কোম্পানি অরলেনও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে। শুক্রবার থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি ১০টির বেশি দরপত্র আহ্বান করেছে। এসব দরপত্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মাসিক তেল বাজার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।
ফলে সৌদি আরবের তেল সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও ইউরোপের তেল বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি তেলের ওপর নির্ভরশীল শোধনাগারগুলোকে সরবরাহ ঘাটতি পূরণে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে হতে পারে।