বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ শনাক্তকরণ ও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণাগার চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে এ গবেষণাগারের উদ্বোধন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণে ফোরিয়ের-ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) ইমেজিং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
গবেষণাগারটির উদ্বোধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. হালিমা বেগম।
প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন স্পেকট্রালিটি সায়েন্টিফিক ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ফিল্ড সার্ভিস বিশেষজ্ঞ অমিত বি. রানে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনোওয়ার্থ অ্যানালিটিক্যাল লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আসিফ চৌধুরী। এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট গবেষক, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দিনটি আনন্দের ও স্মরণীয়। এই গবেষণাগার চালুর মাধ্যমে গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা ও প্রভাব নির্ণয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কাজ শুরু করেছে। এ গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের গবেষণা ও সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের জীবন ও পরিবেশের ওপর কী ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, গবেষণার মাধ্যমে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে আরও কিছু দেওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
‘বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে একটি গবেষণা’ শীর্ষক উপ-প্রকল্পের আওতায় গবেষণাগারটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন গবেষণাগারে আধুনিক এফটিআইআর ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবেশগত নমুনায় থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা হবে। এর মাধ্যমে উপকূলীয় পরিবেশ, সামুদ্রিক সম্পদ ও মানুষের জীবনে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে গবেষণা আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
গবেষণাগার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণে গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের এফটিআইআর প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই গবেষণাগার উপকূলীয় অঞ্চলে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং পরিবেশ ও সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ গবেষণার সুযোগ আরও বাড়াবে।