পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এবার কোরবানির বর্জ্য মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট জনবল।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, মোট জনবলের মধ্যে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ৬ হাজার ৫৫৩ জন কর্মী, পিসিএসপির ৪ হাজার ৭০০ জন এবং অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে অতিরিক্ত ২ হাজার ২০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, কোরবানির দিন দুপুর ১২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরবর্তী ৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম দিনের বর্জ্য সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, কোরবানির বর্জ্য কোনোভাবেই ড্রেন বা নর্দমায় ফেলা যাবে না। এতে যেমন রোগজীবাণু ছড়ায়, তেমনি বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ে।
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। রাজধানীর মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে বর্জ্য স্থানান্তরের জন্যও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, ২৮ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত তিন দিনে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনেই প্রায় ১৫ হাজার ৯৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হবে। চলতি বছর দক্ষিণ সিটি এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার পশু কোরবানি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হবে ২ হাজার ১১৭টি যানবাহন ও যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে রয়েছে কম্পেক্টর, ডাম্প ট্রাক, কন্টেইনার ক্যারিয়ার, পে-লোডার, এক্সকাভেটর, বুলডোজারসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট-বড় অতিরিক্ত গাড়িও মোতায়েন থাকবে।
পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হবে। এছাড়া পশুর হাট ও কোরবানির স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা হবে।
ডিএসসিসি আরও জানিয়েছে, নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পশুর স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল টিমও মাঠে কাজ করবে।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নাগরিকদের সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হবে এবং ঈদের সময় নগরবাসী একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন।