ঢাকা, ৮ জুন ২০২৬: ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় ৪৯ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ কিস্তির আওতায় এ অর্থ দেশের ৬৩ জেলার ৯ হাজার ৮৮৯ জন রোগীর মধ্যে বিতরণ করা হবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল এসব রোগের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে অনেক দরিদ্র পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ মেটাতে জমি বিক্রি, ঋণ গ্রহণ কিংবা সঞ্চয় ভেঙে ফেলতে হয়। এমন বাস্তবতায় সরকারের এই সহায়তা রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় সহায়তার পরিমাণ সীমিত হলেও দরিদ্র রোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা।
তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ অনুমোদনের পর দ্রুত অর্থ ছাড় ও বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা দ্রুত সহায়তা পান। রোগ শনাক্ত হওয়ার পরপরই আবেদন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেরিতে আবেদন করলে অনেক সময় রোগীর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিকিৎসা সহায়তা শাখা গত ২৩ মে এক আদেশে এ বরাদ্দের তথ্য জানায়। ‘ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় এপ্রিল-জুন মেয়াদের চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংক পিএলসির আগারগাঁও শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলার ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জেলা-ভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে চট্টগ্রাম। এ জেলায় ৬২৫ জন রোগীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কুমিল্লায় ৪২৩ জনের জন্য ২ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ময়মনসিংহে ৪০২ জনের জন্য ২ কোটি ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২৬৬ জন রোগীর জন্য ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, সিলেটে ২৬৩ জনের জন্য ১ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, বগুড়ায় ২৫৪ জনের জন্য ১ কোটি ২৭ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং নোয়াখালীতে ২৪৯ জনের জন্য ১ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের রোগীরাও এ সহায়তার আওতায় রয়েছেন। রাঙ্গামাটিতে ৪৪ জনের জন্য ২২ লাখ টাকা, বান্দরবানে ৩৩ জনের জন্য ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং খাগড়াছড়িতে ৪৯ জনের জন্য ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ অবশ্যই সংশোধিত নীতিমালা-২০১৯ অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম বা নিয়মের ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।
বরাদ্দের অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ব্যয় করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ব্যয় না হলে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ সহায়তা কর্মসূচি জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমাবে এবং আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে নতুন ভরসা দেবে। একই সঙ্গে এটি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।