ঢাকায় আগামী ২ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল প্রদর্শনী। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ) অনুষ্ঠিত হবে তিনটি প্রদর্শনী। এতে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পের যন্ত্রপাতি, সুতা, কাপড়, অ্যাকসেসরিজ, ডাইস্টাফ, রাসায়নিক ও নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে।
কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস—সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ এই প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। ২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্বাচলে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী চলবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে প্রদর্শনী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন সেমস-গ্লোবালের গ্রুপ সিইও এস. এস. সারওয়ার, নির্বাহী পরিচালক তানভীর কামরুল ইসলাম ও গ্রুপ ডিরেক্টর অভিষেক দাস।
সংবাদ সম্মেলনে মেহেরুন এন. ইসলাম বলেন, এ বছর টেক্সটাইল সিরিজের ২৫তম বাংলাদেশ সংস্করণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৪ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তার দাবি, এটি বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং একটি বড় ব্যবসায়িক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, প্রদর্শনীগুলোতে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও সরবরাহকারীরা সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ক্রেতা খুঁজতে বিদেশে যেতে হবে না। ভিসা জটিলতাও এড়ানো যাবে। একই ছাদের নিচে ব্যবসায়িক যোগাযোগ হওয়ায় অর্থ, শ্রম ও সময় সাশ্রয় হবে।
আয়োজকেরা বলছেন, এবারের প্রদর্শনীতে তিনটি আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে আছে ২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো, ২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২৬—সামার এডিশন এবং ৫৩তম ডাই + কেম বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো।
টেক্সটেক বাংলাদেশে পোশাক ও টেক্সটাইল উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি, অটোমেশন, স্মার্ট উপকরণ ও যন্ত্রপাতি প্রদর্শিত হবে। ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শোতে সুতা, কাপড়, ট্রিমস ও অ্যাকসেসরিজ থাকবে। আর ডাই + কেম প্রদর্শনীতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডাইস্টাফ ও বিশেষায়িত রাসায়নিক দেখানো হবে।
গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা, পশ্চাৎমুখী শিল্প, উৎপাদনশীলতা, আন্তর্জাতিক মান ও টেকসই উৎপাদনে অগ্রগতি হয়েছে। টেক্সটাইল সিরিজ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প ও বৈশ্বিক টেক্সটাইল সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছে।
আয়োজকরা বলছেন, বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের প্রদর্শনী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন টেকসই উৎপাদন, পণ্যের উৎস ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, দ্রুত সরবরাহ এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উৎপাদন ও তথ্যনির্ভর উৎপাদন শিল্পের ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রদর্শনীগুলো বাংলাদেশের শিল্পকে নতুন প্রযুক্তি, উপকরণ, জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে।
সেমস-গ্লোবাল ইউএসএর টেক্সটাইল সিরিজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, মরক্কো, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় প্রতিবছর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এবারের ঢাকার আয়োজনে ৩৭টি দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৭৫টি কোম্পানি অংশ নেবে। থাকবে ২ হাজার ২৪৫টির বেশি বুথ। আয়োজকরা আশা করছেন, ১৬ হাজারের বেশি ব্যবসায়িক দর্শনার্থী প্রদর্শনীতে আসবেন।
চার দিনের প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি কারখানার মালিক, প্রধান নির্বাহী, উৎপাদন ব্যবস্থাপক, মার্চেন্ডাইজার, সোর্সিং কর্মকর্তা, বায়িং হাউস, প্রকৌশলী, ডিজাইনার, আমদানিকারক, পরিবেশক ও সরবরাহকারীরা অংশ নেবেন। নতুন প্রযুক্তি ও কাঁচামাল সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ থাকবে।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি চারটি আন্তর্জাতিক সেমিনার হবে। এতে টেক্সটাইল শিল্পের নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ও বৈশ্বিক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে।
এবারের আয়োজনে নতুন সংযোজন হিসেবে হল বি-তে থাকবে ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন জোন’। সেখানে বস্ত্র ও পোশাকশিল্পে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনার সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।
প্রদর্শনীতে বিদেশি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশের পর্যটন ও মাইস (মিটিং, ইনসেনটিভ, কনফারেন্স ও এক্সিবিশন) শিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রদর্শনী ২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।