চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি ৯৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৫ টাকা ব্যয়ের একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। এ অর্থে সড়ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন লাইন, বর্জ্যপানি শোধনাগার, বহুমুখী জেটি ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’-এর আওতায় এসব কাজ হবে। প্রকল্পে চীন সরকারের ঋণের পাশাপাশি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নও থাকবে। অনুমোদন অনুযায়ী, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত একটি সড়ক এবং ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ ও ২৪ মিটার প্রশস্ত আরেকটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার থাকবে।
শিল্পাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহে দৈনিক ৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরিবহনের সক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইন ও জেলা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। থাকবে দৈনিক ২৫ মিলিয়ন লিটার সক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধনাগার।
পণ্য পরিবহনের জন্য ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া কঠিন বর্জ্য সংগ্রহকেন্দ্র, ১২ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর এবং দুটি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পে কঠিন বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক শোধন, শোধিত পানি পুনর্ব্যবহার এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পরিকল্পনা বিভাগ ২০ আগস্ট প্রকল্পটির পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) অনুমোদন করেছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।