ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর ভাঙনে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই শতাধিক ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে অনেক পরিবার।
সরকারি উদ্যোগে ২০০৪ সালে ১২০টি অসহায় ছিন্নমূল পরিবারের স্থায়ী আবাসনের লক্ষ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামে মধুমতি নদীর তীরঘেঁষে গড়ে তোলা হয় গুচ্ছগ্রাম। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীন ২০১১-১২ অর্থবছরে এর পাশেই ১৫০টি পরিবারের আবাসনের জন্য নির্মাণ করা হয় আরেকটি আশ্রায়ণ প্রকল্প।
সরেজমিন দেখা গেছে, মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙনে ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২৫টি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে বসতভিটা, গাছপালা, ফসিল জমিসহ প্রায় সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটামাটি হারিয়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতরে জীবনযাপন করছেন। অব্যাহত ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে এই প্রকল্পের বাকি পরিবার। দুয়েক দিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে এসব পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এলাবাসীর দাবি, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে এই অঞ্চলের মানুষ নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।
আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ওবাইদুর রহমান বলেন, অনেক আগেই আমাদের পৈতৃক ভিটামাটি নদীতে হারিয়ে ১৫ বছর ধরে এই আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস করে আসছি। সবশেষ তাও সর্বনাশা মধুমতি কেড়ে নিল। এখন আমাদের মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই।
এ বিষয়ে টগরবন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, গুচ্ছগ্রামের অধিকাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিবেদন দাখিল করেছি। ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক। আশা করি শিগগির স্থায়ী সমাধান হবে।