ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজপথে নেমে এসেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণী। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের স্লোগান ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নয়া দিল্লি ও মুম্বাই সহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই ক্ষোভের দাবানল।
আন্দোলনের পটভূমি ও মূল অভিযোগ ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার পেছনে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। যদিও বিজেপির পাশাপাশি ভারতের নির্বাচন কমিশনও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে, তবুও নির্বাচন কমিশন প্রধান গণেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
জেনজি ও ককরোচ জনতা পার্টির ভূমিকা এই আন্দোলনে তরুণ প্রজন্ম বা জেনজি (GenZ)-র অংশগ্রহণের সাথে সাথে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দলের আহ্বায়ক ও জেনজি প্রধান অভিজিত দ্বীপকে ‘দিল্লি চলো’-র ডাক দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— “এখনই সময়, নয়তো আর কখনোই নয়”। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এই কড়া আহ্বান নরেন্দ্র মোদী প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরনের অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিক্ষোভের রূপ ও দমন-পীড়ন রাজধানী নয়া দিল্লির যন্তর মন্তরে আগামী ১০ই অক্টোবর এক বিশালাকার বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে আন্দোলনের প্রভাব রুখতে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কর্মসূচির আগেই অভিজিত দ্বীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা সহ শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। ইতোমধ্যেই দিল্লিতে টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে এবং পুলিশ গণজমায়েত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বহু আন্দোলনকারীকে আটক ও মামলা ঠুকে দিয়েছে।
বিরোধী জোটের সংহতি ও আন্দোলনের প্রসার কেবল তরুণরাই নন, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মাঠে নেমেছে বিরোধী দলগুলোও। মুম্বাইতে বিরোধী দলীয় নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ভব ঠাকরের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলে শামিল হয়েছেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন অভিমুখে একটি বড় ধরনের গণমিছিল পালনের পরিকল্পনা করেছে বিরোধী রাজনৈতিক জোট।