যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। এ লক্ষ্যে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নীতিমালা সংশোধন, সোলার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং ব্রিজ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সেতু ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম, এমপি।
সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং নতুন আলোচ্য বিষয় তুলে ধরেন। পরে বিস্তারিত আলোচনা শেষে বোর্ড বিভিন্ন প্রস্তাব অনুমোদন করে।
সভায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি উৎপাদনের অংশ হিসেবে যমুনা সেতু সাইটে এনডব্লিউপিজিসিএলকে ১২০ একর জমি ইজারা দিয়ে সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।
বোর্ড সভায় উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিআইএএম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহালের প্রস্তাবও গৃহীত হয়। পাশাপাশি সেতু ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণা এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০-এর আওতায় ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।