জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা একপাক্ষিক ইতিহাস সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসসহ অতীতের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সঠিকভাবে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
চেয়ারম্যান পাটওয়ারী জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩৬টি বইয়ের পরিমার্জনে দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক এবং অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষকরা রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব স্তরের ৬০১টি বই পরিমার্জনের কাজ চলমান রয়েছে এবং ২০২৭ সালের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা নির্ভুল ও আধুনিক পাঠ্যবই হাতে পাবে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে নতুন কিছু বৈচিত্র্যময় বইও যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’, ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার একটি উদ্দীপনামূলক বইও পরিকল্পনায় রয়েছে।
আইসিটি বিষয়ক বইগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়সহ পুনর্গঠিত হচ্ছে। চেয়ারম্যান পাটওয়ারী জানান, শিক্ষার্থী-বান্ধব নতুন কারিকুলামের মূল দর্শন হবে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’, যা পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বৃদ্ধি করবে।
এনসিটিবি আশা প্রকাশ করেছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের বিচ্যুতিমুক্ত, নির্ভুল ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে।