আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও অভিযোগ করেন, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘তথাকথিত আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে যুদ্ধ করছে’। একই দিনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় ধাপে ধাপে আইসিসিকে দুর্বল করে ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালানো হবে।
আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরুর পর থেকেই আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এ নিয়ে উত্তেজনা শুরু হলেও দ্বিতীয় মেয়াদে তা আরও তীব্র হয়েছে।
বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সংক্রান্ত তদন্তের জেরে আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এবার শুধু নিষেধাজ্ঞায় সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য দেশকেও আইসিসির এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানাচ্ছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বা নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তারা যদি আইসিসির দাবি প্রত্যাখ্যান না করে, তবে ভবিষ্যতে মার্কিন সহায়তা কমে যেতে পারে।
তার ভাষ্য, ভবিষ্যতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বাতিল এবং আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
এছাড়া যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে বা যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ, তাদেরও আইসিসির বিচারিক দাবি প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধে রুবিও দাবি করেন, আইসিসি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, বৈশ্বিকতাবাদী গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কিছু দেশের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি এল সালভাদরে অভিবাসী বহিষ্কার ও ইরান–সংক্রান্ত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন।
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আইসিসি ২০০২ সালে রোম সংবিধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। আদালত কেবল সেই দেশগুলোর ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধ তদন্ত করতে পারে, যারা এই চুক্তির সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র এখনো রোম সংবিধি অনুমোদন করেনি।
মানবাধিকারকর্মী কেনেথ রথের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডে সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জবাবদিহি না থাকে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ডেমোক্রেসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাউ (ডন)–এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক রায়েদ জারার বলেন, আইসিসিকে দুর্বল করার এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইসিসির কার্যক্রমের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান