বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্পকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। তিনি বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই শিল্প গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে দ্রুত অগ্রগতি লাভ করেছে।
বুধবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সাথে এ মন্তব্য করেন। হংকং কনভেনশন অনুযায়ী এটি বাংলাদেশের প্রথম সুরক্ষামূলক গ্রিন শিপইয়ার্ড।
পিএইচপি শিপ ব্রেকিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ রাষ্ট্রদূত শিপইয়ার্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শ্রমিক কল্যাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।
ড. রুডিগার লোটজ বলেন, “এই শিল্প বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক অবদান রাখছে। তবে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা অপরিহার্য।” তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে জাহাজভাঙা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ এবং শ্রমিকদের জন্য বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “গ্রিন শিপইয়ার্ডে পরিবেশ সুরক্ষা এবং শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মালিক পক্ষের প্রচেষ্টা দেখে আমি খুশি। আমি আশা করি, হংকং কনভেনশনের আলোকে সব শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড নিজেদের গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।”
পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, “গত এক দশকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশ সম্মতির জন্য ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বখ্যাত এমওএল ও এনওয়াইকে’র জাহাজ কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই সফলভাবে রিসাইকেল করেছি।”
তিনি বলেন, “টেকসই উন্নয়ন এবং মানবিক দায়িত্ব একসাথে এগিয়ে নিতে হয়, এবং এটি আমাদের দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরে গর্বিত।”
এ সময় জার্মান দূতাবাসের কালচারাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার সৈয়দা জারিন রাফা, অনারারি কনসাল মির্জা সাকির ইস্পাহানি এবং পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।