অর্থনীতি, জলবায়ু, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় ফ্রান্স। দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-চারলেট।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান বিশ্ব আগের তুলনায় আরও বিশৃঙ্খল, বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। সংঘাত ও বলপ্রয়োগের প্রবণতার বিপরীতে সংলাপ, সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয়তার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স।
বাংলাদেশকে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, বহুপক্ষীয়তা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের মূল্যবোধের মধ্যে মিল রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী ফ্রান্স।
সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারত মহাসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং অবৈধ মাছ ধরা, জলদস্যুতা ও পাচারের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে চায় ফ্রান্স।
বাংলাদেশ-ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সাড়ে চার বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সের আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই টেক্সটাইল খাতের পণ্য। তবে ওষুধ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিসহ নতুন খাতে বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণ এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াতেও ফ্রান্স সহযোগিতা করছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রেও ফ্রান্সের নীতিগত অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত। দুই দেশের সম্পর্কের সামনে অর্থনীতি, ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।